২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে যে অভাবনীয় ‘ব্যালট বিপ্লব’ দেখেছিল দেশবাসী, তার রেশ কাটতে না কাটতেই আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেই নির্বাচনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা যেভাবে প্রথাগত সব সমীকরণ ভেঙে দিয়েছিল, আগামীকাল সারা দেশের সাধারণ ভোটাররা তার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে প্রস্তুত। আর এই বিশাল পরিবর্তনের নেপথ্যে মূল শক্তি হিসেবে কাজ করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোট।
দীর্ঘদিন যাবৎ বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে দ্বিদলীয় বৃত্ত ছিল, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১১ দলীয় জোট সেই বৃত্তকে চুরমার করে দিয়েছে। এই জোটে শুধু একটি বিশেষ আদর্শের মানুষ নয়, বরং ইনসাফ ও সাম্যের পক্ষে থাকা বিভিন্ন ছোট-বড় রাজনৈতিক শক্তি একত্রিত হয়েছে। ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির যেভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছিল, ঠিক তেমনি এই ১১ দলীয় জোট আজ দেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে একটি শক্তিশালী ‘বিকল্প শক্তি’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই জোটের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান এটিই প্রমাণ করে যে, দেশের মানুষ এখন আর বিভক্ত নয়, বরং একটি সুস্থ ও সুশৃঙ্খল পরিবর্তনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ।
ডাকসুর ফলাফলে দেখা গিয়েছিল, সাধারণ শিক্ষার্থীরা কেবল দলের নাম দেখে নয়, বরং প্রার্থীদের যোগ্যতা ও চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখে ভোট দিয়েছিল। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন এই জোটও সারা দেশে তেমন সুশিক্ষিত ও যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে। ভোটাররা দেখছেন যে, একদিকে যখন ক্ষমতার কাড়াকাড়ি, অন্যদিকে এই ১১ দলীয় জোট মানুষের মৌলিক অধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তির সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে রয়েছে। ডাকসুর সেই বিজয়ী চেতনা এখন এই জোটের হাত ধরে দেশের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ছড়িয়ে পড়ার অপেক্ষায়।
জামায়াতে ইসলামীর প্রতি মানুষের এই ক্রমবর্ধমান সমর্থনের মূল কারণ তাদের আদর্শিক অবিচলতা। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও ১১ দলীয় জোটের ব্যানারে তারা যে সাহসিকতা দেখিয়েছে, তা সাধারণ মানুষের মনে এই বিশ্বাস জন্ম দিয়েছে যে—এরাই পারবে একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে। ডাকসুর সেই নীরব বিপ্লবই আজ সারা দেশে এক বিশাল গণজোয়ারে পরিণত হয়েছে।
পরিশেষে এটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, ডাকসুর সেই বিজয় ছিল একটি দীর্ঘ পথচলার শুভ সূচনা, যার পূর্ণতা পাওয়ার মাহেন্দ্রক্ষণ আগামীকাল। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট আজ কেবল একটি নির্বাচনী মোর্চা নয়, বরং এটি শোষিত মানুষের স্বপ্নের ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির সূর্যোদয় যদি ব্যালট বিপ্লবের সাক্ষী হয়, তবে তা হবে এ দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনে জামায়াতে ইসলামীর এক ঐতিহাসিক ও গৌরবোজ্জ্বল প্রত্যাবর্তনের দিন। অন্ধকার কেটে গিয়ে ইনসাফের সূর্য উদয় হওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
সম্পাদকীয় | ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬