ডান কাত হয়ে শুয়ে ঘুমানোর উপকারিতা:
মানুষের শোবার বিভিন্ন রকম অভ্যাস ও ভঙ্গি আছে।
একেক জনের শোবার ভঙ্গি একেক রকম।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ডান কাত হয়ে ডান হাত গালের নিচে ঘুমাতে।
তাই এটিই মুসলমানদের জন্য ঘুমানোর সুন্নাত পদ্ধতি। এর ফজিলত যেমন রয়েছে তেমনি অনেক উপকারিতাও আছে।
আসুন জেনে নিই: ঘুমানোর অন্যান্য পদ্ধতির চাইতে সুন্নাহ পদ্ধতির কেন স্বাস্থ্যসম্মত।
১. কেউ কেউ পেটের উপর ভর করে ঘুমান।
২. কেউ কেউ পিঠের উপর শুয়ে ঘুমান।
৩. কেউ কেউ বাম কাত হয়ে ঘুমান।
৪. কেউ কেউ ডান কাত হয়ে ঘুমান।
১. পেটের উপর ঘুমানো:
এই অবস্থায় ঘুমালে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, কারণ দেহের ওজন এবং হাড়ের কাঠামো ফুসফুসের উপর চাপ ফেলে।
তাই, পেটের উপর ঘুমানো স্বাস্থ্যসম্মত নয়।
৩. বাম কাত হয়ে ঘুমানো:
সাধারণভাবে খাবার হজম হতে ২ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় লাগে।
কিন্তু বাম কাত হয়ে ঘুমালে হজম হতে লাগে ৫ থেকে ৮ ঘণ্টা, কারণ ডান ফুসফুস বড় হওয়ায় তা হৃদয় এবং যকৃৎকে চাপ দেয়।
ফলে যকৃৎ, যা শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ, সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না এবং অস্বস্তি তৈরি হয়।
অতএব, বাম কাত হয়ে ঘুমানোও স্বাস্থ্যসম্মত নয়।
৪. ডান কাত হয়ে ঘুমানো:
ডান কাত হলে, বাম ফুসফুস যেহেতু ছোট ও হালকা, তাই চাপ কম পড়ে।
আর যকৃৎ শরীরের নিচে স্থির হয়ে থাকে, ফলে হজম দ্রুত হয়।
তাই, এটাই ঘুমানোর সবচেয়ে উত্তম উপায়—স্বস্তিদায়ক এবং উপকারী।
হাদীস দ্বারা প্রমাণ:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“যখন তুমি শোবার যায়, তখন নামাযের ওযু করো, তারপর ডান কাত হয়ে শুয়ে পড়ো এবং বলো:
اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ…”
📖 সহীহ বুখারী ও মুসলিম (মত:আলাইহি)
প্রাচীন বাণী:
পিঠের উপর ঘুমানো: রাজাদের ঘুম
পেটের উপর ঘুমানো: শয়তানের ঘুম
বাম কাত হয়ে ঘুমানো: ধনীদের ঘুম (অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে)
ডান কাত হয়ে ঘুমানো: পরহেযগার ও আলেমদের ঘুম
আর এটি-ই ছিল রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর ঘুমানোর ভঙ্গি।

